
শাকিব আহমেদ, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) : নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ৮নং বলাইশিমুল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের প্রত্যন্ত গ্রাম পাড়া দুর্গাপুরে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে নিজেদের অর্থায়নে ৬টি কাঁচা রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে গ্রামবাসী। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়।
উদ্যোক্তা আবুল কালাম আল আজাদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মাত্র পাঁচ বছরের শিশু মাহফুজুল হাসান সানি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. শাহাদত হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের শেষ সীমানায় অবস্থিত পাড়া দুর্গাপুর একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। প্রায় ৯ শতাধিক মানুষের বসবাস এই গ্রামে। শিক্ষার হার প্রায় ৮০ শতাংশ এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। এছাড়া শতাধিক মানুষ বিদেশে কর্মরত রয়েছেন। আশপাশের ৭–৮টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এ গ্রামের ওপর দিয়ে চলাচল করায় এখানে প্রতিদিন সকালবাজারও বসে।
তবে এত মানুষের চলাচলের পরও গ্রামটির যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বর্ষা মৌসুমে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যাতায়াত করাই হয়ে পড়ে কষ্টসাধ্য। এ অবস্থায় গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গত ১২ জানুয়ারি গ্রামবাসী এক বৈঠকে মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন, পাড়া দুর্গাপুর মসজিদ থেকে বলাইশিমুল গ্রাম পর্যন্তসহ গ্রামের ছোট-বড় মোট ৬টি রাস্তা ভেকু দিয়ে মাটি কেটে প্রশস্ত করা হবে। প্রায় ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এসব রাস্তা অটোরিকশা চলাচলের উপযোগী করা হবে। এতে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে গ্রামবাসীর অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গ্রামটিতে বর্তমানে ৩টি হেফজখানা (পুরুষ), ১টি মহিলা মাদ্রাসা, ৩টি মসজিদ ও ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গ্রামটিতে এখনো একটি পাকা রাস্তাও নেই। পানি নিষ্কাশনের জন্য থাকা একমাত্র খলখলিয়া খালটিও বর্তমানে কেবল নামেই আছে।
পাড়া দুর্গাপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান বলেন,
“এই গ্রামের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। রাস্তা-ঘাটের অভাবে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন তারা এই অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ান।”
উদ্যোক্তা আবুল কালাম আল আজাদ বলেন,
“আমি এই গ্রামের সন্তান। শিক্ষা ও চাকরির দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও আমাদের গ্রামটি যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরমভাবে পিছিয়ে। সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ না থাকায় আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছি। আমি গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি—আমাদের গ্রামের দিকে যেন দৃষ্টি দেওয়া হয়।”
বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. শাহাদত হোসেন বলেন,
পাড়া দুর্গাপুর একটি প্রত্যন্ত এলাকা। গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। চলতি অর্থবছরে যদি কোনো সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়, তাহলে এই রাস্তাগুলোর ওপর প্রয়োজনীয় ইউ-ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের ব্যবস্থা দ্রুত করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।তাছাড়া এই গ্রামের লোকজনের সাথে কথা বলে জেনেছি, সবাই অবহেলিত হয়েও গ্রামের সাধারণ মানুষ সহ সকল মানুষ সবাই ভালো মনের। যারা বিগত দিনে এই ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে ছিল, তাঁরা কেউ কোন ধরনের কাজ করেননি।
নিজস্ব সংবাদ : 














