ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ঘোষণা Logo বাংলাদেশ-ফ্রান্স গভীর ও গতিশীল অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্নবীকরণ করেছে Logo পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ অনুদান ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কাছে ডিএসসিসির ঈদ অনুদান হস্তান্তর করলেন ডিএসসিসি প্রশাসক  Logo উত্তরখানে ঈদগাহ্ ও খেলার মাঠ উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক Logo মধ্যনগরের বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে অসহায় হতদরিদ্র লোকদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ। Logo খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে – আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী Logo ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলেন সেতু সচিব Logo মধ্যনগরের সূর্যসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের চিরবিদায়। Logo জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বদলে যাবে ভাগ্য: মৌলভীবাজারে কাটাগাং খাল খননকাজে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী Logo কালিগঞ্জে সাংবাদিক সমিতি আয়োজনে   ইফতার ও দোয়া  অনুষ্ঠিত হয়েছে
ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে সচেতনতা বাড়াতে রাজধানীতে কর্মশালায় ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার

নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুণ – ভূমি উপদেষ্টা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৯ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন,ভূমি উন্নয়ন কর রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস এ কথা নিঃসন্দেহে সত্য। কারণ এই করের মাধ্যমে সরকার স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য নিয়মিত ও স্থিতিশীল অর্থায়নের সুযোগ পায়। সড়ক যোগাযোগ,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেচব্যবস্থা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ বহু জনকল্যাণমূলক কাজে ভূমি উন্নয়ন করের অর্থ ব্যবহৃত হয়। নাগরিকের দেওয়া করই আবার জনগণের কল্যাণে ফিরে আসে। ভূমি থেকে সঠিকভাবে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে। সময়মতো ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ভূমির মালিক গণকে নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন রাষ্ট্র বির্নিমাণে অংশীদার হোন।

আজ (সোমবার) রাজধানীর ভূমি ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে করনীয় নির্ধারণ’ বিষয়ক ‘’কর্মশালায়’’ তিনি এসব কথা বলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ.জে.এম.সালাউদ্দিন নাগরী।

উপদেষ্টা বলেন, ডিজিটাল ভূমিসেবা কার্যক্রমের ফলে ২০২০ সাল থেকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের হার প্রতিবছর ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমদিকে অনলাইন সিস্টেমে কিছু সমস্যা ছিল এখন শতভাগ অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ হচ্ছে। এতে হয়রানী যেমন কমছে অপরদিকে মানুষের মাঝে কর পরিশোধের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজ সংস্থার কর পরিশোধে উদাসিনতা রাষ্ট্রীয় রাজস্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজে ভুল বার্তা দেয়।

তিনি আরো বলেন, ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর আদায় অপরিহার্য। ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধের মাধ্যমে ভূমির মালিকরা কেবল আইনগত দায়িত্বই পালন করেন না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখেন। অন্যদিকে কর ফাঁকি বা উদাসীনতা রাজস্ব ঘাটতি সৃষ্টি করে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করে,সরকার তার ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধকে শুধুমাত্র আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কর পরিশোধে সচেতনতা বাড়লে যেমন রাষ্ট্র উপকৃত হবে, তেমনি ভূমির মালিকানাগত নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট বকেয়া ৭১১ কোটি ২০ লাখ ৭৬ হাজার ২শত টাকা। এ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৮২ কোটি ৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে জুন/২৫ পর্যন্ত সংস্থা /প্রতিষ্ঠানের কাছে ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া ৫শ ৬১ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ১৪৯ কোটি৪২লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
সবচেয়ে বেশি বকেয়া বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে ২২০.২৫ কোটি টাকা।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ.এস.এম.সালেহ আহমেদ,ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান(সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ ও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড.মো:মাহমুদ হাসান । আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর অধিন দপ্তর সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ঘোষণা

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে সচেতনতা বাড়াতে রাজধানীতে কর্মশালায় ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার

নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুণ – ভূমি উপদেষ্টা

আপডেট সময় ১২:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন,ভূমি উন্নয়ন কর রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস এ কথা নিঃসন্দেহে সত্য। কারণ এই করের মাধ্যমে সরকার স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য নিয়মিত ও স্থিতিশীল অর্থায়নের সুযোগ পায়। সড়ক যোগাযোগ,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেচব্যবস্থা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ বহু জনকল্যাণমূলক কাজে ভূমি উন্নয়ন করের অর্থ ব্যবহৃত হয়। নাগরিকের দেওয়া করই আবার জনগণের কল্যাণে ফিরে আসে। ভূমি থেকে সঠিকভাবে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে। সময়মতো ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ভূমির মালিক গণকে নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন রাষ্ট্র বির্নিমাণে অংশীদার হোন।

আজ (সোমবার) রাজধানীর ভূমি ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে করনীয় নির্ধারণ’ বিষয়ক ‘’কর্মশালায়’’ তিনি এসব কথা বলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ.জে.এম.সালাউদ্দিন নাগরী।

উপদেষ্টা বলেন, ডিজিটাল ভূমিসেবা কার্যক্রমের ফলে ২০২০ সাল থেকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের হার প্রতিবছর ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমদিকে অনলাইন সিস্টেমে কিছু সমস্যা ছিল এখন শতভাগ অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ হচ্ছে। এতে হয়রানী যেমন কমছে অপরদিকে মানুষের মাঝে কর পরিশোধের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজ সংস্থার কর পরিশোধে উদাসিনতা রাষ্ট্রীয় রাজস্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজে ভুল বার্তা দেয়।

তিনি আরো বলেন, ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর আদায় অপরিহার্য। ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধের মাধ্যমে ভূমির মালিকরা কেবল আইনগত দায়িত্বই পালন করেন না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখেন। অন্যদিকে কর ফাঁকি বা উদাসীনতা রাজস্ব ঘাটতি সৃষ্টি করে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করে,সরকার তার ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধকে শুধুমাত্র আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কর পরিশোধে সচেতনতা বাড়লে যেমন রাষ্ট্র উপকৃত হবে, তেমনি ভূমির মালিকানাগত নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট বকেয়া ৭১১ কোটি ২০ লাখ ৭৬ হাজার ২শত টাকা। এ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৮২ কোটি ৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে জুন/২৫ পর্যন্ত সংস্থা /প্রতিষ্ঠানের কাছে ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া ৫শ ৬১ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ১৪৯ কোটি৪২লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
সবচেয়ে বেশি বকেয়া বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে ২২০.২৫ কোটি টাকা।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ.এস.এম.সালেহ আহমেদ,ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান(সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ ও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড.মো:মাহমুদ হাসান । আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর অধিন দপ্তর সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।