
আলী আহসান রবি:আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ নারী জাগরণের বিশিষ্ট নেত্রী, রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ‘নূরজাহান মুরশিদ’-এর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী
আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ বাংলার নারী জাগরণের বিশিষ্ট নেত্রী, রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ ও সাবেক সংসদ সদস্য, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নূরজাহান মুরশিদ-এর বাইশতম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
আজীবন নারী ও দরিদ্র মানুষের সমঅধিকার বিশ্বাসী, গণতন্ত্রমনা নূরজাহান মুরশিদ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে তৎকালীন পাকিস্তানে আইয়ুবের সামরিক শাসন বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে, বাঙালি স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামে এবং মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন সক্রিয় ভূমিকায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন লড়াই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে ভারতের লোক ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে মুজিবনগর সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন যার ফলে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের স্বীকৃতি এবং সর্বাতাক সহযোগিতা তরান্বিত হয়েছিল। ইয়াহিয়া সরকারের তাঁর সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ঘোষণা করে এবং পরবর্তীতে দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেয়।
নূরজাহান মুরশিদ ছিলেন এদেশে নারী আন্দোলনের পুরোধা ব্যাক্তিত্ব। দেশ ভাগের আগে কলকাতায় প্রথম জীবনে তিনি নারী শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত হন এবং তৎকালীন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পরিবেশে কলকাতায় মুসলিমলীগের প্রগতিশীল অংশটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাকিস্তাান শাসনামলে ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে ৪০ জনসদস্যের ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম কমিটি’ গঠিত হয়। এ কমিটিতে নাদেরা চৌধুরী, লিলি চৌধুরী, নূরজাহান মুরশিদ প্রমুখ নারীনেতৃবৃন্দ যুক্তছিলেন। নূরজাহান মুরশিদ ১৯৫৪ সালে ‘যুক্তফ্রন্টের’ প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য পদে জয়লাভ করেন, তিনি সরাসরি নির্বাচিত প্রথম নারী সাংসদদের একজন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৮-৬৯ সালের গণ-অন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন এবং পঁচিশে মার্চ গণহত্যা শুরু হলে স্বপরিবারে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। স্বাধীন বাংলদেশে ১৯৭২ সালে নূরজাহান মুরশিদ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৪ সালে আদর্শিক কারণে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
সমাজ ও অর্থনৈতিক জীবনে, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বাংলাদেশ মহিলা সমিতির প্রথম সভাপতি ছিলেন। আজিমপুর লেডিস ক্লাব ও অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি বারডেম-এর একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, উন্মেষকালে আইন ও সালিশকেন্দ্র-এর একজন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। বৈশ্বিক রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন যে নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া সম্ভব নয় এ বিষয়ক চিন্তার বীজ তিনি রেখে গেছেন তাঁর সম্পাদিত মাসিক এদেশ-একাল পত্রিকায়।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫সোমবার, এই মহিয়সী নারীর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সকাল ১১:০০ টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দো’আ ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে।
মরহুমের পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে সকলকে এ কর্মসূচী গুলোতে অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।