
কাইয়ুম বাদশাহ, সুনামগঞ্জ (সিলেট) : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় গত ১৪ মার্চ ২০২৬ খ্রি. দিবাগত রাতে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে চারটি ইউনিয়নের প্রায় ২০০টি পরিবারের বসতঘর ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল শিলাবৃষ্টির আঘাত বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
রাতভর হঠাৎ শুরু হওয়া প্রবল ঝড় ও শিলাবৃষ্টি ভোর প্রায় ৫টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের শিলা পড়ে, ফলে অনেক ঘরের টিনের চাল ছিদ্র হয়ে যায় এবং কিছু ঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কৃষকরা ফসলেরও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
১নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা মো. শাজাহান বলেন, “শিলাবৃষ্টির কারণে আমার ঘরের টিনের চাল পুরোপুরি ছিদ্র হয়ে গেছে। আমার একটি মাত্র ঘরই ছিল সম্বল। আমি একজন হতদরিদ্র মানুষ, আমার নিজের কোনো জায়গা-জমি নেই। খাস জমিতে থাকি। থাকার মতো ছোট এই ঘরটিই ছিল, গত রাতের শিলাবৃষ্টিতে সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। এখন কীভাবে থাকব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
১নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রাথমিক একটি তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা উপজেলা প্রশাসন পরিদর্শন করেছে। দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর সহায়তার জন্য ৬,০০০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ১০,০০,০০০ (দশ লাখ) টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।”
উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত রয়েছেন এবং প্রাথমিকভাবে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদ : 




















