ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব প্রলোভনে পড়ে খোয়ালেন অর্ধকোটি টাকা,  চক্রের ০৪ সদস্য  সিআইডির হাতে গ্রেফতার Logo সংকট এড়াতে ৬ মাসের প্রয়োজনীয় সবধরনের টিকা মজুত থাকবে…..স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে সিটিটিসি Logo মিস-ইনফরমেশন ও ডিজ-ইনফরমেশন প্রতিরোধে কাজ করছে সরকার – তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী Logo বাংলাদেশ ও ইইউ এর মধ্যে পিসিএ’র প্রাথমিক স্বাক্ষর Logo তামাক ব্যবহার কমাতে ও রাজস্ব বাড়াতে বাজেটে তিন প্রস্তাব Logo ভোলার দৌলতখানে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন Logo পানিসম্পদ খাতে সহযোগিতা জোরদারে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক Logo হবিগঞ্জের সাতছড়ি সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ী বনাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ৫৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও ১৫ বোতল বিয়ার জব্দ করেছে বিজিবি Logo বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ
৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু পাবে টিকা ২১ মে’র মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্নের লক্ষ্য

জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা যায়

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৫১:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩৮ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : বাংলাদেশে বর্তমানে কিছু এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশেষ করে ছোট শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলছে। সরকার এই পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা যায়।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (NITAG) একটি জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এই কার্যক্রমটি একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

এই কার্যক্রমের আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশু অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তারা পূর্বে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক। এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে কোনো শিশুই সুরক্ষার বাইরে না থাকে।

এই কার্যক্রমটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর রোগের পরিস্থিতি এবং মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো ২১ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বেই, পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

আগামীকাল সকাল ৯:০০টায় এই জরুরি টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন একযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নবাবগঞ্জে উদ্বোধন করবেন। মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কক্সবাজারে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদরে উদ্বোধন করবেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের মাননীয় উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে উদ্বোধন করবেন। মাননীয় স্বাস্থ্য সচিব গাজীপুরে উদ্বোধন করবেন। এই সমন্বিত উদ্বোধন সরকারের সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তবে যেসব শিশুর জ্বর আছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদেরকে এই সময় টিকা দেওয়া হবে না। তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর টিকা গ্রহণ করবে।

হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত সুস্থতায় সহায়তা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।

এই কার্যক্রম সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা অভিভাবক, স্থানীয় নেতৃত্ব, গণমাধ্যম এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে অনুরোধ করছি সঠিক তথ্য প্রচার করতে এবং গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে।

আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে পারলে আমরা এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হব। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অবশ্যই এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারব।

সবশেষে, এই কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যুক্ত সকল বিশেষজ্ঞ, কর্মকর্তা এবং অংশীদারদের তাদের মূল্যবান সময়, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গঠনমূলক মতামতের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব প্রলোভনে পড়ে খোয়ালেন অর্ধকোটি টাকা,  চক্রের ০৪ সদস্য  সিআইডির হাতে গ্রেফতার

৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু পাবে টিকা ২১ মে’র মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্নের লক্ষ্য

জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা যায়

আপডেট সময় ০৫:৫১:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

আলী আহসান রবি : বাংলাদেশে বর্তমানে কিছু এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশেষ করে ছোট শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলছে। সরকার এই পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা যায়।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (NITAG) একটি জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এই কার্যক্রমটি একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

এই কার্যক্রমের আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশু অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তারা পূর্বে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক। এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে কোনো শিশুই সুরক্ষার বাইরে না থাকে।

এই কার্যক্রমটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর রোগের পরিস্থিতি এবং মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো ২১ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বেই, পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

আগামীকাল সকাল ৯:০০টায় এই জরুরি টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন একযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নবাবগঞ্জে উদ্বোধন করবেন। মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কক্সবাজারে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদরে উদ্বোধন করবেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের মাননীয় উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে উদ্বোধন করবেন। মাননীয় স্বাস্থ্য সচিব গাজীপুরে উদ্বোধন করবেন। এই সমন্বিত উদ্বোধন সরকারের সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তবে যেসব শিশুর জ্বর আছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদেরকে এই সময় টিকা দেওয়া হবে না। তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর টিকা গ্রহণ করবে।

হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত সুস্থতায় সহায়তা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।

এই কার্যক্রম সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা অভিভাবক, স্থানীয় নেতৃত্ব, গণমাধ্যম এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে অনুরোধ করছি সঠিক তথ্য প্রচার করতে এবং গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে।

আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে পারলে আমরা এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হব। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অবশ্যই এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারব।

সবশেষে, এই কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যুক্ত সকল বিশেষজ্ঞ, কর্মকর্তা এবং অংশীদারদের তাদের মূল্যবান সময়, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গঠনমূলক মতামতের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।