
কাইয়ুম বাদশাহ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১ নং উত্তর বংশীকুন্ডা ও ২ নং দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ইসলামিক রিলিফ ফাউন্ডেশনের দেওয়া নগদ ৬ হাজার টাকা ও গোখাদ্য সহায়তার উপকারভোগী তালিকা নিয়ে অনিয়ম, অসঙ্গতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট মেম্বারদের মাধ্যমে প্রণীত তালিকায় একাধিক নাম ও পিতার নামের ক্ষেত্রে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নিশি কান্ত সরকারের পিতার নাম তালিকায় আরকান আলী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই গ্রামের কাচম আলীর পিতার নাম নগেন্দ্র চন্দ্র সরকার এবং রনি চন্দ্র সরকারের পিতার নাম সাইদ আলী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। বংশীকুন্ডা গ্রামের রূপ নাহারের পিতার নাম জগদীশ চন্দ্র সরকার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহেবুর আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ইসলামিক রিলিফ ফাউন্ডেশনের তালিকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী তৈরি হলেও এতে ব্যাপক অসংগতি ও ত্রুটি রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নাম তালিকায় তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে। তালিকায় এমন ঘটনাও পাওয়া গেছে যেখানে সুবিধাভোগীর নাম মুসলমান হলেও পিতার নাম হিন্দু, আবার সুবিধাভোগীর নাম হিন্দু হলেও পিতার নাম মুসলমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই পরিবারের দুই থেকে তিনজন সদস্যের নামও তালিকাভুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই না করায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর আগে সহায়তার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, নাম অন্তর্ভুক্তির আশ্বাসে কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে এবং সহায়তার অর্থ পাওয়ার পর প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে ফেরত দেওয়ার শর্তের কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, যদি এ ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে, তাহলে তা দুর্যোগ সহায়তা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে সত্য উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিজস্ব সংবাদ : 










