
কাইয়ুম বাদশাহ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের বাকাতলা গ্রামের প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিন আর নেই। রোববার ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিনের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বাকাতলাসহ আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন সততা, সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মরহুমকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে জানাজা শেষে তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী নিজ জমিতেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন কার্যক্রমের জন্য ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় ঘোষ, পুলিশের সদস্যবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য শফিকুল ইসলাম শফিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বাকাতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. রমজান ডাক্তার বলেন, “তমিজ উদ্দিন ছিলেন আমাদের গ্রামের অভিভাবকের মতো। মানুষের দুঃসময়ে তিনি সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসী একজন অভিজ্ঞ, সৎ ও মানবিক মানুষকে হারালো।”
স্থানীয়রা জানান, তিনি সবসময় নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতেন। তাঁর আদর্শ ও অবদান এলাকাবাসীর মাঝে দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মরহুমের ছোট ছেলে ইমরান হোসেন বলেন, “আমার বাবা শুধু আমাদের পরিবারের নয়, পুরো এলাকার গর্ব ছিলেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। আমরা সকলের কাছে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
নিজস্ব সংবাদ : 










