
প্রিয়, বেলাশেষের আকাশে যদি
কোনও একলা পাখিকে দিগন্ত রেখা
বরাবর ডানা মেলতে দেখে হঠাৎ
মনটা উদাস হয়ে যায়, পাশে থেকো
একটা যুতসই শব্দের অভাবে যদি
মাঝপথে কোনও কবিতা থেমে যায়;
কিংবা দিনে দিনে জমানো খুচরো টাকায়
কেনা বইটি মাঝপথে পড়া থামিয়ে
পাতার কোনা ভাঁজ করে রেখে দেই পাশে।
নিজকে খুঁজে ফিরি পোট্রেটার মাঝে।
ভিড়ের মাঝেও ভিষণ একলা লাগে।
যখন সাঁজঘরে থরে থরে সাঁজানো প্রসাধন মন কাড়ে না,
আয়নায় বসেও নিজেকে আর
সাঁজাতে মন টানে না,
নতুন টিপটা খুলে লেপটে রাখি
আয়নার কোণে
প্রিয় পোষাকের রঙ মন টানে না
ফোল্ডারে জমানো পছন্দের গানগুলো বড্ড বেসুরো লাগে,
খাবার টেবিলও মন বসে না।
ধরো, কোনও এক নির্জন সন্ধ্যায়
দূরের কোনও আলোর দিকে
চেয়ে থাকি ঠাঁই- অপলক; অথবা
বেলকনির গ্রিলে আলতো করে কপল ছুঁয়ে থাকি; যখন সূর্যের ডুবে যাওয়া
দেখে চোখ ভিজে ওঠে।
ঠিক; সে সময়ে, আমার তোমাকেই চাই
সময়-অসময়ে, ক্ষণিকের জন্য হলেও
ঐ প্রশস্ত কাঁধ ধার দিও ; বিনিময়ে
বেলকনীর টবে ফোটা নাইট কুইনের
প্রথম কলিটা তোমাকেই দেবো।
শোধ করে দেবো জীবনের যত দায়
প্রিয় সময়ে – অসময়ে,
কারণে বা অকারণে, কাঁধ ধার দিও।
লেখক : হাসান হাফিজুর রহমান।