
মো: খলিলুর রহমান, বাউফল (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ কমপক্ষ ৫০ জন আহত হয়েছে। রবিবার দুপুর সারে ১২টার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমিয়াজান এলাকার ভান্ডারিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতদের মধ্যে মো. জুয়েল (৩৩), মো. নয়ন (১৭) মো. শাহজালাল (২০), মো. সুজন (২৬), মো. শহিদুল বেপাড়ি (২৭) মো. হাফেজ আনিসুর রহমান (৫৫) মো. আমিনুল মাতুব্বর (৩৫) মো. নুরুমাতুব্বর (৩৫) মো. সাইফুল শরিফ (৩৫) মো. আলআমিন চৌকিদার (২৫) ও মো. সোহাগসহ (২৭) মোট ২৪জনকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া মো. জামাল মৃধা নামে এক জামায়াত কর্মীকে আশংকাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, রবিবার সারে ১২টার দিকে জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারনা করেন। এ সময় বিএনপির কর্মীরা নারীকর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটারদের টাকা দেয়ার অভিযোগ তুলে তাদের বাঁধাগ্রস্থ করে। খবর পেয়ে মিছিল নিয়ে জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা ঘটনাস্থলে আসলে বিএনপির লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ৩০ মিনিট ব্যাপী সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ ৫০জন আহত হয়। এ ঘটনার পর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিকাল সারে ৩টার দিকে হাসপাতাল সড়কে জামায়াতের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জনতা ভবনের সামনে গিয়ে ফিরে হাসপাতালের কাছে পৌঁছালে মিছিলকারীরা মো. শামিম নামে এক বিএনপি সমর্থককে মারধর করে। এ সময় বিএনপির কর্মীরা এগিয়ে আসলে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হলে ৮ থেকে ১০জন আহত হয়।
পরে জামায়াতের কর্মীসমর্থকরা বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমানকে বদলীর দাবীতে থানার সামনে বরিশাল-বাউফল সড়ক অবরোধ করে রাখে। সন্ধা ৭টার দিকে পটুয়াখালী জেলার বাউফল সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মুহাম্মদ শাকুর এক বক্তব্যে বলেন, পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বর্তমানে বাউফল থানার দায়িত্বে তিনি থাকবেন। সকল প্রকার হামলার প্রকৃত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাউফল সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মুহাম্মদ শাকুরেরআশ্বাসের প্রেক্ষিতে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত নেতাকর্মীদের শান্তভাবে মিছিল নিয়ে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের দিকে যেতে বলেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. খালিদুর রহমান বলেন, বাউফল থানার ওসি নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তার ইন্দনেই জামায়াতের কর্মীরা একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ ফিরোজকে ফোন দিলে তিনি নিজেকে অসুস্থ বলে ফোন কেটে দেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তারা (জামায়াত) যে সকল অভিযোগ আমার প্রতি এনছেন, সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমি আমার অবস্থান থেকে শতভাগ নিরপেক্ষ ভুমিকা রেখে চলছি।
নিজস্ব সংবাদ : 


























