ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে প্রাণহানিতে কৃষিমন্ত্রীর গভীর শোক Logo হতে ০১টি দেশীয় পিস্তলসহ ০১ (এক) জন অস্ত্রধারী’কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-২ Logo মাদকে সম্পৃক্ত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না – প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু Logo কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেল ক্রসিংয়ে বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ১২, কারন অনুসন্ধানে রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন। Logo সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হযরত আলীর পক্ষ থেকে মধ্যনগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা। Logo মধ্যনগর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার। Logo ঈদুল ফিতরে এনসিপির শহীদী মোলাকাত Logo নেপালে আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে বিকেএসপি’র অভাবনীয় সাফল্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন। Logo স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন Logo অষ্টম নেকোস (NECOS) আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে ২ টি স্বর্ণ ১ টি ব্রোঞ্জ জয় করেছে বাংলাদেশ।

সরকারি কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়; দুর্ধর্ষ চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার ও ১৫ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার করেছে ডিএমপি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
  • ৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর ভাটারা এলাকায় এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে আটক, মারধর ও জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দুর্ধর্ষ এক চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভাটারা থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। নাজমুন নাহার সুখী (২৮) ২। কামরুন নাহার আঁখি (৩২) ৩। রুমানা ইসলাম স্মৃতি (৫০) ও ৪। মোঃ সাফাত ইসলাম লিংকন (২৫)।

শনিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি.) রাত আনুমানিক ০১:৩০ ঘটিকা হতে ০২:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত ভাটারার বসুমতি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের নিকট হতে আদায়কৃত চাঁদার ১৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ভাটারা থানা সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম উচ্চপদস্থ একজন সরকারি কর্মকর্তা। গ্রেফতারকৃত কামরুন নাহার আঁখি তার পূর্ব পরিচিত। ভিকটিমের নিকট হতে বিভিন্ন প্রয়োজনে গত ৩-৪ মাসে ৫ লাখ টাকা ধার নেয় আঁখি। পরবর্তীতে ভিকটিম টাকা ফেরত চাইলে আঁখি টালবাহানা শুরু করে। গত ১৮ এপ্রিল ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় আসেন ভিকটিম। পরদিন (১৯ এপ্রিল) বিকেলে তার আরেক পূর্ব পরিচিত নাজমুন নাহার তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভার কেয়ার হাসপাতালের গেট থেকে ছোলমাইদ উত্তরপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গ্রেফতারকৃত চারজনসহ অজ্ঞাতনামা একজন ভিকটিমকে আটক করে। সেখানে সাফাত ইসলাম বালিশ দিয়ে তার মুখ চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে এবং অন্যরা তার হাত-পা বেঁধে মারধর করে। অত:পর তারা ভিকটিমের নিকট এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে ৬০ লক্ষ ২৩ হাজার ৮০ টাকা সংগ্রহ করে তাদেরকে দেন। এরপর তারা ভিকটিমের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিএমপির ভাটারা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।

থানা সূত্রে আরো জানা যায়, মামলা রুজুর পর ভাটারা থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সদস্যদের চিহ্নিত ও তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে শনিবার রাত আনুমানিক ০১:৩০ ঘটিকা হতে ০২:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত ভাটারা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের নিকট হতে আদায়কৃত চাঁদার ১৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা সমাজের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে তাদের ব্ল্যাকমেইলের জাল বিস্তার করে। প্রথমে তারা তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। সখ্যতার এক পর্যায়ে ভিকটিমদের একটি বাসায় নিয়ে আসে। সেখানে আটক, নির্মম মারধর, চাঁদা আদায় এবং নগ্ন ভিডিও ধারণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করে থাকে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। চক্রের পলাতক এক সদস্যকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সকল ধরনের অপরাধ দমনে ডিএমপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নগরবাসীর জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনসাধারণকে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করতে আহ্বান জানাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে প্রাণহানিতে কৃষিমন্ত্রীর গভীর শোক

সরকারি কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়; দুর্ধর্ষ চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার ও ১৫ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার করেছে ডিএমপি

আপডেট সময় ০৬:০৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর ভাটারা এলাকায় এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে আটক, মারধর ও জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দুর্ধর্ষ এক চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভাটারা থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। নাজমুন নাহার সুখী (২৮) ২। কামরুন নাহার আঁখি (৩২) ৩। রুমানা ইসলাম স্মৃতি (৫০) ও ৪। মোঃ সাফাত ইসলাম লিংকন (২৫)।

শনিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি.) রাত আনুমানিক ০১:৩০ ঘটিকা হতে ০২:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত ভাটারার বসুমতি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের নিকট হতে আদায়কৃত চাঁদার ১৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ভাটারা থানা সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম উচ্চপদস্থ একজন সরকারি কর্মকর্তা। গ্রেফতারকৃত কামরুন নাহার আঁখি তার পূর্ব পরিচিত। ভিকটিমের নিকট হতে বিভিন্ন প্রয়োজনে গত ৩-৪ মাসে ৫ লাখ টাকা ধার নেয় আঁখি। পরবর্তীতে ভিকটিম টাকা ফেরত চাইলে আঁখি টালবাহানা শুরু করে। গত ১৮ এপ্রিল ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় আসেন ভিকটিম। পরদিন (১৯ এপ্রিল) বিকেলে তার আরেক পূর্ব পরিচিত নাজমুন নাহার তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভার কেয়ার হাসপাতালের গেট থেকে ছোলমাইদ উত্তরপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গ্রেফতারকৃত চারজনসহ অজ্ঞাতনামা একজন ভিকটিমকে আটক করে। সেখানে সাফাত ইসলাম বালিশ দিয়ে তার মুখ চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে এবং অন্যরা তার হাত-পা বেঁধে মারধর করে। অত:পর তারা ভিকটিমের নিকট এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে ৬০ লক্ষ ২৩ হাজার ৮০ টাকা সংগ্রহ করে তাদেরকে দেন। এরপর তারা ভিকটিমের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিএমপির ভাটারা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।

থানা সূত্রে আরো জানা যায়, মামলা রুজুর পর ভাটারা থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সদস্যদের চিহ্নিত ও তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে শনিবার রাত আনুমানিক ০১:৩০ ঘটিকা হতে ০২:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত ভাটারা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের নিকট হতে আদায়কৃত চাঁদার ১৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা সমাজের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে তাদের ব্ল্যাকমেইলের জাল বিস্তার করে। প্রথমে তারা তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। সখ্যতার এক পর্যায়ে ভিকটিমদের একটি বাসায় নিয়ে আসে। সেখানে আটক, নির্মম মারধর, চাঁদা আদায় এবং নগ্ন ভিডিও ধারণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করে থাকে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। চক্রের পলাতক এক সদস্যকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সকল ধরনের অপরাধ দমনে ডিএমপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নগরবাসীর জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনসাধারণকে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করতে আহ্বান জানাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।