ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দীপু দাসকে সরকারের আর্থিক ও বাড়ি নির্মাণ সহায়তা প্রদান Logo খাতে নীতি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রণয়নে কমিটির অবদানকে কৃতজ্ঞতাশিক্ষা জানালেন শিক্ষা উপদেষ্টা Logo ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন বিজিবি মহাপরিচালক Logo ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন বিজিবি মহাপরিচালক Logo ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম হলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার Logo হাতিরঝিলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান: বিদেশি রিভলবার, গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার। Logo গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৭ জন Logo ২০২৬ সালে হজযাত্রীরা তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত পাবেন – প্রেস ব্রিফিংয়ে ধর্ম উপদেষ্টা Logo সহিংসতা প্রতিরোধ, নতুন আইন ও ভাতা বৃদ্ধি: ১৬ মাসের হিসাব দিলেন শারমীন এস মুরশিদ Logo দিনের ভোট দিনে ঝুঁকি নয়, খুঁজুন আস্থার পথ
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের আচরণ পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে ডিএমপির সঙ্গে যৌথ মোটর শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন তিনি।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে: – উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৯ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। হর্ন বাজানোটা আমাদের বহুদিনের চরম বদভ্যাস। এটা পরিবর্তনের জন্য যেমন আইন লাগে তেমনি মানুষেরও অভ্যাস পরিবর্তন করতে হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় আজ শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর যৌথ উদ্যোগে হর্নের বিরুদ্ধে মোটর শোভাযাত্রার আয়োজন উদ্বোধনকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের ‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’-এর গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে আইনগত ভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কারণ তারাই সারাক্ষণ রাস্তায় থাকে; তারা যেন শব্দ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। ইতিমধ্যে ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এইসব এলাকায় মনিটরিং বাড়াতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, শব্দ দূষণের দুটি উৎসকে বেশি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে–হর্ন বাজানো আর আতশবাজি ফুটানো। তিনি একটা সুনির্দিষ্ট স্থানে যাতে শুধুমাত্র নববর্ষের আতশবাজি ফোটানো হয় যাওয়ার আগে তার ব্যবস্থা করে যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান। উপদেষ্টা আগামী নির্বাচিত সরকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান মানুষের এ অভ্যাস পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে বিষয়টিকে ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ আপনারা স্বপ্রনোদিত হয়ে, নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে মানুষকে হর্ন না বাজানোর বার্তা প্রচার করুন। উপস্থিত তরণ কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে যদি বধির হওয়া থেকে বাঁচাতে হয়, শব্দদূষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে; তবেই পরিবর্তন আসবে।

আর নয় শব্দ দূষণ, জয় হোক সুস্থ জীবন—শ্লোগানকে সামনে রেখে উপদেষ্টা বর্নিল শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। শোভাযাত্রাটি সকালে মানিক মিয়া এভিনিউ (সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা) থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বিজয় স্মরণী হয়ে আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের এসে শেষ হয়।
আয়োজনে আরো বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ কামরুজ্জামান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ সারোয়ার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিসুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাগণ।
পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়ধীন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প-এর আয়োজনে গত ৫ জানুয়ারি থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দশটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দশ দিন মোবাইল কোর্ট ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে যা আজকের মোটর শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এই ক্যাম্পেইন পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন গ্রীন ভয়েস-এর তরুণ স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীবৃন্দ।

জনপ্রিয় সংবাদ

দীপু দাসকে সরকারের আর্থিক ও বাড়ি নির্মাণ সহায়তা প্রদান

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের আচরণ পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে ডিএমপির সঙ্গে যৌথ মোটর শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন তিনি।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে: – উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

আপডেট সময় ১০:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। হর্ন বাজানোটা আমাদের বহুদিনের চরম বদভ্যাস। এটা পরিবর্তনের জন্য যেমন আইন লাগে তেমনি মানুষেরও অভ্যাস পরিবর্তন করতে হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় আজ শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর যৌথ উদ্যোগে হর্নের বিরুদ্ধে মোটর শোভাযাত্রার আয়োজন উদ্বোধনকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের ‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’-এর গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে আইনগত ভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কারণ তারাই সারাক্ষণ রাস্তায় থাকে; তারা যেন শব্দ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। ইতিমধ্যে ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এইসব এলাকায় মনিটরিং বাড়াতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, শব্দ দূষণের দুটি উৎসকে বেশি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে–হর্ন বাজানো আর আতশবাজি ফুটানো। তিনি একটা সুনির্দিষ্ট স্থানে যাতে শুধুমাত্র নববর্ষের আতশবাজি ফোটানো হয় যাওয়ার আগে তার ব্যবস্থা করে যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান। উপদেষ্টা আগামী নির্বাচিত সরকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান মানুষের এ অভ্যাস পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে বিষয়টিকে ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ আপনারা স্বপ্রনোদিত হয়ে, নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে মানুষকে হর্ন না বাজানোর বার্তা প্রচার করুন। উপস্থিত তরণ কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে যদি বধির হওয়া থেকে বাঁচাতে হয়, শব্দদূষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে; তবেই পরিবর্তন আসবে।

আর নয় শব্দ দূষণ, জয় হোক সুস্থ জীবন—শ্লোগানকে সামনে রেখে উপদেষ্টা বর্নিল শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। শোভাযাত্রাটি সকালে মানিক মিয়া এভিনিউ (সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা) থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বিজয় স্মরণী হয়ে আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের এসে শেষ হয়।
আয়োজনে আরো বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ কামরুজ্জামান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ সারোয়ার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিসুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাগণ।
পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়ধীন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প-এর আয়োজনে গত ৫ জানুয়ারি থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দশটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দশ দিন মোবাইল কোর্ট ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে যা আজকের মোটর শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এই ক্যাম্পেইন পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন গ্রীন ভয়েস-এর তরুণ স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীবৃন্দ।