ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বাংলাদেশ-ফ্রান্স গভীর ও গতিশীল অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্নবীকরণ করেছে Logo পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ অনুদান ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কাছে ডিএসসিসির ঈদ অনুদান হস্তান্তর করলেন ডিএসসিসি প্রশাসক  Logo উত্তরখানে ঈদগাহ্ ও খেলার মাঠ উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক Logo মধ্যনগরের বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে অসহায় হতদরিদ্র লোকদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ। Logo খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে – আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী Logo ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলেন সেতু সচিব Logo মধ্যনগরের সূর্যসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের চিরবিদায়। Logo জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বদলে যাবে ভাগ্য: মৌলভীবাজারে কাটাগাং খাল খননকাজে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী Logo কালিগঞ্জে সাংবাদিক সমিতি আয়োজনে   ইফতার ও দোয়া  অনুষ্ঠিত হয়েছে Logo কালিগঞ্জে তেল মজুদের দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও তেল জব্দ
তামাক নিয়ন্ত্রণে সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপের ওপর গুরুত্ব

তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের ইস্যু – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:২০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫৩ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্ব নয়; এটি একটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য ইস্যু, যেখানে সব মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।

আজ সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ -এর কার্যকর বাস্তবায়ন বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচার করা হয়েছে যে – তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে। তিনি বলেন, “এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তামাক কোম্পানির টাকায় দেশ চলে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।” এই যুক্তি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, তামাকজনিত রোগের কারণে প্রতিবছর স্বাস্থ্য খাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও সে বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না। “তামাক কোম্পানি কত রাজস্ব দেয়, সেটি আলোচনায় আসে; কিন্তু তামাক ব্যবহারের ফলে যে স্বাস্থ্য ব্যয় ও সামাজিক ক্ষতি হচ্ছে, তা আড়াল করা হয়,” – এমন মত প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারি শেয়ার থাকা তামাক কোম্পানির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, মানুষের মৃত্যু ঘটায়—এমন কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার রাখার যৌক্তিকতা নেই। বরং এসব কোম্পানিকে নিষ্ক্রিয় করে জনগণের ক্ষতি রোধ করাই সরকারের দায়িত্ব।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, “তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।” স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল যৌথভাবে সেই রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে বলেও তিনি জানান।

আইন সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্তত এই সরকারের সময়েই কার্যক্রম শুরু করা গেলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলো তা এগিয়ে নিতে পারবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সত্যিই জনগণের কল্যাণ চায়, তাদের নির্বাচনের আগেই তামাক নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার জানাতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিনামূল্যে সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য বিতরণের ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো এই সুযোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫-এর সংশোধনী কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মিজ নূরজাহান বেগম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব জনাব মোঃ সাইদুর রহমান। বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচী পরিচালক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মোঃ আবু জাফর-সহ মতবিনিময় সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-ফ্রান্স গভীর ও গতিশীল অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্নবীকরণ করেছে

তামাক নিয়ন্ত্রণে সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপের ওপর গুরুত্ব

তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের ইস্যু – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০২:২০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আলী আহসান রবি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্ব নয়; এটি একটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য ইস্যু, যেখানে সব মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।

আজ সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ -এর কার্যকর বাস্তবায়ন বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচার করা হয়েছে যে – তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে। তিনি বলেন, “এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তামাক কোম্পানির টাকায় দেশ চলে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।” এই যুক্তি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, তামাকজনিত রোগের কারণে প্রতিবছর স্বাস্থ্য খাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও সে বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না। “তামাক কোম্পানি কত রাজস্ব দেয়, সেটি আলোচনায় আসে; কিন্তু তামাক ব্যবহারের ফলে যে স্বাস্থ্য ব্যয় ও সামাজিক ক্ষতি হচ্ছে, তা আড়াল করা হয়,” – এমন মত প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারি শেয়ার থাকা তামাক কোম্পানির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, মানুষের মৃত্যু ঘটায়—এমন কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার রাখার যৌক্তিকতা নেই। বরং এসব কোম্পানিকে নিষ্ক্রিয় করে জনগণের ক্ষতি রোধ করাই সরকারের দায়িত্ব।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, “তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।” স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল যৌথভাবে সেই রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে বলেও তিনি জানান।

আইন সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্তত এই সরকারের সময়েই কার্যক্রম শুরু করা গেলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলো তা এগিয়ে নিতে পারবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সত্যিই জনগণের কল্যাণ চায়, তাদের নির্বাচনের আগেই তামাক নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার জানাতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিনামূল্যে সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য বিতরণের ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো এই সুযোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫-এর সংশোধনী কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মিজ নূরজাহান বেগম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব জনাব মোঃ সাইদুর রহমান। বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচী পরিচালক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মোঃ আবু জাফর-সহ মতবিনিময় সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।