ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ…ড. খলিলুর রহমান Logo এনায়েতপুর যুবসমাজের উদ্যোগে ব্যতিক্রমী আয়োজন: শিশু কিশোরদের কুরআন তেলওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  Logo ভিয়েনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: পুলিশ সংস্কার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা Logo কিশোরগঞ্জে নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা বাচ্চু মিয়ার পরিবারের পাশে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আর্থিক সহায়তা প্রদান ও বাসস্থানের ঘোষণা Logo জনগুরুত্ব বিবেচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার – সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম Logo স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষিত ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যেই চালু হলো সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের আইসিইউ  Logo মধ্যনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম এর দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন। Logo প্রধানমন্ত্রীর ঈদ বোনাস পেলেন ডিএনসিসির ৩ হাজার ৩২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী Logo গাবতলি বাস টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করলেন আইজিপি ও ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার Logo বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ঘোষণা
ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ব্যাখ্যা করে সরকার জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে।

যমুনা এলাকায় গুলি ছোড়া হয়নি, হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর—অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪০ বার পড়া হয়েছে
আলী আহসান রবি : শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।
আজ শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।
জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (lethal weapon) ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।
সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।
সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা
জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ…ড. খলিলুর রহমান

ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ব্যাখ্যা করে সরকার জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে।

যমুনা এলাকায় গুলি ছোড়া হয়নি, হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর—অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি

আপডেট সময় ০৭:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আলী আহসান রবি : শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।
আজ শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।
জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (lethal weapon) ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।
সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।
সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা