ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গণ অধিকার পরিষদের রাশেদ খান নুর এর ওপর হামলাকারীর পরিচয় জানালেন Logo অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতি Logo মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দুই প্রতিনিধি বুয়েট শিক্ষার্থী শাদিদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন Logo খাদ্য, পানি, বায়ু ও প্রকৃতি সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান Logo রাণীশংকৈলে জামায়াতে ইসলামী’র নির্বাচনী প্রচারণা ও আলোচনা সভা Logo রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হতে অস্ত্রসহ (ছয়) জন অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার Logo ডিবিসির প্রতিনিধি এ কে সাজুর উপর হামলার প্রতিবাদে নওগাঁয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ Logo স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নামে ভুয়া অডিও কল রেকর্ড তৈরির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদলিপি Logo বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ Logo সুনামগঞ্জ সীমান্তে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকার ভারতীয় মদ জব্দ

বাউফলে ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের ৬ একর জমির পাকা ধান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৪৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৫৯৪ বার পড়া হয়েছে

মো: খলিলুর রহমান, বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে এক কৃষকের রোপন করা পাকা ধান কাটতে বাধা দেয়ায় ৬ একর জমির পাকা ধান ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এতে ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তোভোগী ওই কৃষকরা। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ বেল্লাল ব্যাপারী ও একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহআলম রাড়ীর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেবে ছয় একর জমির ধান মাটিতে মিশে গেছে। ধানের ছড়া ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েছে। ফলে নষ্ট হয়ে গেছে পাকা ধান। কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে ইদুরের গর্তে ধানের ছড়া। দেখার যেন কেউ নেই। পাশে দাড়িয়ে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন চাষি কবির ফকির ও বশির ফকির। প্রতিবেদককে দেখা মাত্রই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন তাঁরা। কবির ফকির বললেন, স্যার আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। কত কষ্ট করে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দিনরাত পরিশ্রম করে ক্ষেতে ধান রোপন করে ছিলাম। সেই কষ্টের ধান চোখের সামনে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমাদের করার কিছুই ছিল না। কেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে (১লা বৈশাখ থেকে ৩০শা চৌত্র মাস-১৪৩১ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত জমির মালিক রেজাউল করিম (মন্টু) মিয়ার কাছ থেকে এক বছরের জন্য ৩০ একর জমি ক্রয় করি। ওই ক্রয় করা জমির ৬ একর জমির ধান কাটতে গেলে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ বেল্লাল ব্যাপরী ও একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শাহ আলম রাড়ী তাঁদের নিজেদের জমি দাবি করে লোকজন নিয়ে বাধা প্রদান করেন। এক পর্যায়ে ধান কেটে নিলে প্রান নাশের হুমকি দেন তাঁরা। তাই আমরা দুই ভাই ভয়ে ভীত হয়ে কারো কাছে কোন অভিযোগ দেইনি।
ধান কাটতে বাধা দেওয়র কথা অস্বীকার করে বিএনপি নেতা বেল্লাল ব্যাপরী বলেন, জমির মালিক রেজাউল করিম মন্টুর কাছ থেকে আমি তিন লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে ৩০ একর জমি একসনা ক্রয় করেছি। এর আগে একই জমি তিনি বশির ফকির ও কবির ফকিরের কাছে বিক্রি করেছিলো কিনা তা আমার জানা নেই।
জমি বিক্রেতা রেজাউল করিম (মন্টু) বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। স্থানীয় কৃষক বশির ও কবির ফকিরের কাছে আমি জমি বিক্রি করেছি। অন্য কারো কাছে জমি বিক্রি করি নাই। তবে বিএনপি নেতারা কেন তাদের পাকা ধান কাটতে বাধা দিয়েছেন তা আমি বলতে পারব না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণ অধিকার পরিষদের রাশেদ খান নুর এর ওপর হামলাকারীর পরিচয় জানালেন

বাউফলে ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের ৬ একর জমির পাকা ধান

আপডেট সময় ০৫:৪৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫

মো: খলিলুর রহমান, বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে এক কৃষকের রোপন করা পাকা ধান কাটতে বাধা দেয়ায় ৬ একর জমির পাকা ধান ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এতে ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তোভোগী ওই কৃষকরা। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ বেল্লাল ব্যাপারী ও একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহআলম রাড়ীর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেবে ছয় একর জমির ধান মাটিতে মিশে গেছে। ধানের ছড়া ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েছে। ফলে নষ্ট হয়ে গেছে পাকা ধান। কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে ইদুরের গর্তে ধানের ছড়া। দেখার যেন কেউ নেই। পাশে দাড়িয়ে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন চাষি কবির ফকির ও বশির ফকির। প্রতিবেদককে দেখা মাত্রই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন তাঁরা। কবির ফকির বললেন, স্যার আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। কত কষ্ট করে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দিনরাত পরিশ্রম করে ক্ষেতে ধান রোপন করে ছিলাম। সেই কষ্টের ধান চোখের সামনে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমাদের করার কিছুই ছিল না। কেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে (১লা বৈশাখ থেকে ৩০শা চৌত্র মাস-১৪৩১ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত জমির মালিক রেজাউল করিম (মন্টু) মিয়ার কাছ থেকে এক বছরের জন্য ৩০ একর জমি ক্রয় করি। ওই ক্রয় করা জমির ৬ একর জমির ধান কাটতে গেলে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ বেল্লাল ব্যাপরী ও একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শাহ আলম রাড়ী তাঁদের নিজেদের জমি দাবি করে লোকজন নিয়ে বাধা প্রদান করেন। এক পর্যায়ে ধান কেটে নিলে প্রান নাশের হুমকি দেন তাঁরা। তাই আমরা দুই ভাই ভয়ে ভীত হয়ে কারো কাছে কোন অভিযোগ দেইনি।
ধান কাটতে বাধা দেওয়র কথা অস্বীকার করে বিএনপি নেতা বেল্লাল ব্যাপরী বলেন, জমির মালিক রেজাউল করিম মন্টুর কাছ থেকে আমি তিন লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে ৩০ একর জমি একসনা ক্রয় করেছি। এর আগে একই জমি তিনি বশির ফকির ও কবির ফকিরের কাছে বিক্রি করেছিলো কিনা তা আমার জানা নেই।
জমি বিক্রেতা রেজাউল করিম (মন্টু) বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। স্থানীয় কৃষক বশির ও কবির ফকিরের কাছে আমি জমি বিক্রি করেছি। অন্য কারো কাছে জমি বিক্রি করি নাই। তবে বিএনপি নেতারা কেন তাদের পাকা ধান কাটতে বাধা দিয়েছেন তা আমি বলতে পারব না।