ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সরকারের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন – হজ টিমের সদস্যদের প্রতি  ধর্মমন্ত্রী। Logo কক্সবাজারের রামুতে সিএনজিতে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ চালককে আটক করেছে বিজিবি Logo ডিএসসিসির উদ্যোগে ফুলে ভরে উঠলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের ফুটপাত; দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা চাইলেন প্রশাসক Logo সংস্কৃতি হলো একটি জাতির আত্মা’ — সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী Logo কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo ৪০ লক্ষ টাকার জাল নোটসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কোতয়ালী থানা পুলিশ Logo ফ্যাসিবাদ একটি মানসিক রোগ’ — তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন Logo দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সাতক্ষীরার উন্নয়ন: জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা Logo পেট্রোল অকটেনের যে মজুদ আছে আগামী দুই মাসেও সমস্যা হবে না : জ্বালানি মুখপাত্র Logo কর্ণফুলী টানেলের আয় বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিতে সেতু সচিবের মতবিনিময় ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন

বাউফলে নিয়োগের পর একদিনও বিদ্যালয়ে না গিয়ে নিয়মিত বেতন নিচ্ছেন এক সহকারি শিক্ষক

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৪১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৬০৯ বার পড়া হয়েছে

মো: খলিলুর রহমান, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ২২১ নং পশ্চিম বটকাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ে আসেন না সহকারি শিক্ষক খায়রুন্নেছা ইভা। প্রতিমাসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষক হিসেবে খায়রুন্নেছা ইভা নওমালা ইউনিয়নের ২২১ নং পশ্চিম বটকাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরিতে নিয়োগের পর এটিই তার প্রথম যোগদান। যোগদানের পর থেকে তিনি ওই বিদ্যালয়ে ক্লাস নেন না। প্রতিমাসে বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে আসেন।

একাধিক অভিভাবক বলেন, এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। খায়রুন্নেছা ইভা প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষক। তিনি বিদ্যালয়ে না আসায় প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, খায়রুন্নেছা ইভা নামের কোনো শিক্ষককে আমরা চিনি না। কোনো দিন দেখিওনি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে তার বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ক্লাশগুলো ম্যানেজ করতে বাকী শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া খায়রুন্নেছা ইভা প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি ছাড়া প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি পরিচালনা করা অসম্ভব। তার ক্লাশটি অন্য শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দেওয়াটাও দৃষ্টিকটু। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার শ্যালিকা পরিচয় দিয়ে খায়রুন্নেছা ইভা প্রভাব বিস্তার করছেন। তাই তিনি যোগদানের পর থেকে ক্লাশ করছেন না। প্রতিমাসে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যাচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিস অবহিত থাকলেও খায়রুন্নেছা ইভার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার বলেন, অজপাড়াগাঁয়ে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঠদান বঞ্চিত হোক তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমি অনুপস্থিত সহকারি শিক্ষক খায়রুন্নেছা ইভার ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারি শিক্ষক খায়রুন্নেছা ইভা বলেন, আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাই। মাঝে কিছুদিন অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে (সংযুক্তি) ছিলাম। ডেপুটেশনের কোনো অফিসিয়াল আদেশ আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি এড়িয়ে যান।

ওই ক্লাষ্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়ালীউল ইসলাম বলেন, খায়রুন্নেছা ইভা ওই বিদ্যালয়ে না যাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন – হজ টিমের সদস্যদের প্রতি  ধর্মমন্ত্রী।

বাউফলে নিয়োগের পর একদিনও বিদ্যালয়ে না গিয়ে নিয়মিত বেতন নিচ্ছেন এক সহকারি শিক্ষক

আপডেট সময় ০৫:৪১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫

মো: খলিলুর রহমান, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ২২১ নং পশ্চিম বটকাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ে আসেন না সহকারি শিক্ষক খায়রুন্নেছা ইভা। প্রতিমাসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষক হিসেবে খায়রুন্নেছা ইভা নওমালা ইউনিয়নের ২২১ নং পশ্চিম বটকাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরিতে নিয়োগের পর এটিই তার প্রথম যোগদান। যোগদানের পর থেকে তিনি ওই বিদ্যালয়ে ক্লাস নেন না। প্রতিমাসে বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে আসেন।

একাধিক অভিভাবক বলেন, এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। খায়রুন্নেছা ইভা প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষক। তিনি বিদ্যালয়ে না আসায় প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, খায়রুন্নেছা ইভা নামের কোনো শিক্ষককে আমরা চিনি না। কোনো দিন দেখিওনি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে তার বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ক্লাশগুলো ম্যানেজ করতে বাকী শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া খায়রুন্নেছা ইভা প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি ছাড়া প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি পরিচালনা করা অসম্ভব। তার ক্লাশটি অন্য শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দেওয়াটাও দৃষ্টিকটু। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার শ্যালিকা পরিচয় দিয়ে খায়রুন্নেছা ইভা প্রভাব বিস্তার করছেন। তাই তিনি যোগদানের পর থেকে ক্লাশ করছেন না। প্রতিমাসে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যাচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিস অবহিত থাকলেও খায়রুন্নেছা ইভার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার বলেন, অজপাড়াগাঁয়ে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঠদান বঞ্চিত হোক তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমি অনুপস্থিত সহকারি শিক্ষক খায়রুন্নেছা ইভার ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারি শিক্ষক খায়রুন্নেছা ইভা বলেন, আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাই। মাঝে কিছুদিন অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে (সংযুক্তি) ছিলাম। ডেপুটেশনের কোনো অফিসিয়াল আদেশ আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি এড়িয়ে যান।

ওই ক্লাষ্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়ালীউল ইসলাম বলেন, খায়রুন্নেছা ইভা ওই বিদ্যালয়ে না যাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।