
কাইয়ুম বাদশাহ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলায় বিভিন্ন হাওরে বোরো ধান রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। হাওরের পানি ধীরে ধীরে নামায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই কৃষিকাজে হাওরপাড়ের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হয়েছেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও মাঠে নেমে পড়েছে—কেউ শ্রমিকদের জন্য দুপুরের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে, আবার কেউ হালিচারা সংগ্রহ করে চাষের কাজে সহায়তা করছে।
সরেজমিনে টাংগুয়ার হাওর, ঘোড়াডোবা হাওর, শালদিঘা হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়—বিস্তীর্ণ জমিতে কৃষকরা বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মধ্যনগর উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
টাংগুয়ার হাওরপাড়ের বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষক জালাল মিয়া বলেন, “হাওরের পানি নামতে দেরি হওয়ায় এখনো সব জমিতে চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। পানি পুরোপুরি নামলে দ্রুত রোপণ শেষ করা যাবে।”
ঘোড়াডোবা হাওরপাড়ের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, “প্রতিদিনই আমরা জমিতে ধান রোপণের কাজ করছি। এখনই বোরো ধানের চারা রোপণের চূড়ান্ত সময়। তবে পানি ধীরে নামায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।”
উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী নূর আলম জানান, “মধ্যনগর উপজেলার হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কাজ পুরোপুরি শুরু হবে। আশা করছি, খুব দ্রুতই হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, “চলতি বোরো মৌসুমে মধ্যনগর উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় উন্নত মানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান রোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।”
নিজস্ব সংবাদ : 




















