
কাইয়ুম বাদশাহ, সুনামগঞ্জ : সুনামঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় হাওর ও কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, ছাত্রসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের মধ্যনগর উপজেলা আহ্বায়ক মোঃ আশরাফ উদ্দিন হিল্লোল এবং সদস্য সচিব খসরুজ্জামান কবির। কর্মসূচিতে বক্তারা সরকারের অনুমতি ছাড়া হাওরের কান্দা ও খোলা মাঠ থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার কার্যক্রমের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বক্তারা বলেন, হাওরে নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হাওরাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আহ্বায়ক মোঃ আশরাফ উদ্দিন হিল্লোল বলেন, “মধ্যনগরের হাওরে অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে শুধু কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে না, পুরো হাওর এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। হাওর রক্ষায় অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
সদস্য সচিব খসরুজ্জামান কবির বলেন, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ। এই আন্দোলন দল-মত নির্বিশেষে হাওরপাড়ের কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার এবং পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অবৈধভাবে হাওরের কান্দা কাটা বন্ধ না হলে কৃষকের চারণভূমি ধ্বংস হবে এবং ধান কাটার মৌসুমে কৃষকদের নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিউর রহমান চৌধুরী, সংগঠনের সদস্য কাইয়ুম বাদশাহসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষক ও সাধারণ মানুষ।
এদিকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ১৩ ধারায় জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আবাসযোগ্য ও কৃষিজমির উপরিভাগ কর্তন এবং জমি জবরদখল শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি দেশের সকল জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে অবৈধ খনন ও জমি জবরদখল বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং হাওর ও কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।
নিজস্ব সংবাদ : 



















