ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ Logo সততা, দায়িত্ববোধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী Logo কোরবানির হাটের বর্জ্য অপসারণ শেষে তেজগাঁওয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত…স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo মধ্যনগরে ১০২ হাফেজকে সংবর্ধনা দিল ইসলামি ছাত্র পরিষদ Logo হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী Logo পদ্মা ও যমুনা সেতুতে আধুনিক ইটিসি প্রযুক্তির সুফল : ঈদুল আযহার ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন Logo লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন Logo কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের খোঁজ নিতে ঝটিকা সফরে ভোলায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের জেরে দায়ের করা চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় প্রভাবশালীদের চাপে তদন্ত ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ।

নওগাঁয় চাঁদাবাজি মামলায় তদন্ত নিয়ে পুলিশের নীরবতা, গ্রেপ্তার করেই কি দায় সারা?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:২৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৮৮ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁ সদর উপজেলার গোপাই গ্রামে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের জেরে দায়ের করা চাঁদাবাজি প্রাণনাশের হুমকির মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এজাহার দাখিলের পর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও এখন প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এমন গুঞ্জনে চরম আতঙ্কে রয়েছেন ভুক্তভোগী বাদী ও তার পরিবার।

সদর মডেল থানায় দায়ের করা এজাহার ও স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার গোপাই গ্রামে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছিলেন আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তি। তার মালিকানাধীন “সামাদ জেল ব্রিকস” এর দূষণে ওই এলাকার ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বসবাসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল স্থানীয়দের। একাধিকবার অনুরোধ সত্ত্বেও ওই ইটভাটা বন্ধ না করায় এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আবুল কাসেম মোল্লা। সরেজমিন তদন্ত করে ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ইটভাটাটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এরপরই ইটভাটা ভাঙার ক্ষতিপূরণের অজুহাতে আব্দুস সামাদ আবুল কাসেম মোল্লার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করা হয়। আবুল কাসেম মোল্লা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করলে আদালতে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তারা অব্যাহতি পান। এরপর আবারো চাঁদা দাবীতে চাপ সৃষ্টি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে আব্দুস সামাদ তার ছেলে সিরাজুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আবুল কাসেম মোল্লার বাড়ির সামনে গিয়ে চাঁদা দাবী করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর ও খুন জখমের হুমকি দিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়। পরে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী আবুল কাসেম মোল্লা। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও হঠাৎ করেই তদন্তের গতি ও অবস্থান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন গুঞ্জন উঠেছে।
ভুক্তভোগী আবুল কাসেম মোল্লা বলেন, আসামিরা অব্যাহতি পেলে তিনি ও তার পরিবার সরাসরি জীবনের হুমকির মুখে পড়বেন। কারণ অতীতেও মিথ্যা মামলা ব্যর্থ হওয়ার পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তিনি অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় গ্রামবাসী জোবায়ের হোসেন, এরসাদ আলী ও খয়বর আলী বলেন, একটি স্পর্শকাতর চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় তদন্ত প্রভাবিত হলে তা শুধু একজন ভুক্তভোগীর জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের জন্যও ভয়ংকর বার্তা বহন করবে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জোবায়ের হোসেন বলেন, কোনো মামলায় প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর অভিযুক্তদের অব্যাহতির বিষয়টি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এতে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকিতে পড়ে, তেমনি বিচার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুন্ন হয়। তাই এক্ষেত্রে অবশ্যই পুলিশকে দায়িত্বশীল আচরন করতে হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এস,আই) হারুন অর রশিদ বলেন, প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন প্রভাবশালী মহলের চাপে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় আপাতত কিছু বলার সুযোগ নেই। তদন্ত কর্মকর্তা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ

অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের জেরে দায়ের করা চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় প্রভাবশালীদের চাপে তদন্ত ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ।

নওগাঁয় চাঁদাবাজি মামলায় তদন্ত নিয়ে পুলিশের নীরবতা, গ্রেপ্তার করেই কি দায় সারা?

আপডেট সময় ০২:২৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁ সদর উপজেলার গোপাই গ্রামে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের জেরে দায়ের করা চাঁদাবাজি প্রাণনাশের হুমকির মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এজাহার দাখিলের পর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও এখন প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এমন গুঞ্জনে চরম আতঙ্কে রয়েছেন ভুক্তভোগী বাদী ও তার পরিবার।

সদর মডেল থানায় দায়ের করা এজাহার ও স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার গোপাই গ্রামে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছিলেন আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তি। তার মালিকানাধীন “সামাদ জেল ব্রিকস” এর দূষণে ওই এলাকার ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বসবাসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল স্থানীয়দের। একাধিকবার অনুরোধ সত্ত্বেও ওই ইটভাটা বন্ধ না করায় এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আবুল কাসেম মোল্লা। সরেজমিন তদন্ত করে ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ইটভাটাটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এরপরই ইটভাটা ভাঙার ক্ষতিপূরণের অজুহাতে আব্দুস সামাদ আবুল কাসেম মোল্লার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করা হয়। আবুল কাসেম মোল্লা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করলে আদালতে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তারা অব্যাহতি পান। এরপর আবারো চাঁদা দাবীতে চাপ সৃষ্টি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে আব্দুস সামাদ তার ছেলে সিরাজুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আবুল কাসেম মোল্লার বাড়ির সামনে গিয়ে চাঁদা দাবী করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর ও খুন জখমের হুমকি দিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়। পরে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী আবুল কাসেম মোল্লা। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও হঠাৎ করেই তদন্তের গতি ও অবস্থান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন গুঞ্জন উঠেছে।
ভুক্তভোগী আবুল কাসেম মোল্লা বলেন, আসামিরা অব্যাহতি পেলে তিনি ও তার পরিবার সরাসরি জীবনের হুমকির মুখে পড়বেন। কারণ অতীতেও মিথ্যা মামলা ব্যর্থ হওয়ার পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তিনি অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় গ্রামবাসী জোবায়ের হোসেন, এরসাদ আলী ও খয়বর আলী বলেন, একটি স্পর্শকাতর চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় তদন্ত প্রভাবিত হলে তা শুধু একজন ভুক্তভোগীর জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের জন্যও ভয়ংকর বার্তা বহন করবে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জোবায়ের হোসেন বলেন, কোনো মামলায় প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর অভিযুক্তদের অব্যাহতির বিষয়টি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এতে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকিতে পড়ে, তেমনি বিচার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুন্ন হয়। তাই এক্ষেত্রে অবশ্যই পুলিশকে দায়িত্বশীল আচরন করতে হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এস,আই) হারুন অর রশিদ বলেন, প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন প্রভাবশালী মহলের চাপে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় আপাতত কিছু বলার সুযোগ নেই। তদন্ত কর্মকর্তা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।