ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় স্বাধীনভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা Logo রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo প্রধান উপদেষ্টার নিকট ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর Logo স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন কন্ট্রোল রুম ও ডিএমপি’র থানা পরিদর্শন Logo ভয়েস ফর জাস্টিস অবজারভার্স টিমের প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ Logo বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, ১৯৭ জন বিদেশী সাংবাদিক Logo প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আনফ্রেল-এর নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo শুভেচ্ছা’ ও ‘দ্রুত টিকেট’-এর যাত্রা শুরু Logo নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা আইল্যান্ড ইকোপার্ক উদ্বোধন করলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা
অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের জেরে দায়ের করা চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় প্রভাবশালীদের চাপে তদন্ত ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ।

নওগাঁয় চাঁদাবাজি মামলায় তদন্ত নিয়ে পুলিশের নীরবতা, গ্রেপ্তার করেই কি দায় সারা?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:২৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৫৪ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁ সদর উপজেলার গোপাই গ্রামে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের জেরে দায়ের করা চাঁদাবাজি প্রাণনাশের হুমকির মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এজাহার দাখিলের পর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও এখন প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এমন গুঞ্জনে চরম আতঙ্কে রয়েছেন ভুক্তভোগী বাদী ও তার পরিবার।

সদর মডেল থানায় দায়ের করা এজাহার ও স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার গোপাই গ্রামে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছিলেন আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তি। তার মালিকানাধীন “সামাদ জেল ব্রিকস” এর দূষণে ওই এলাকার ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বসবাসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল স্থানীয়দের। একাধিকবার অনুরোধ সত্ত্বেও ওই ইটভাটা বন্ধ না করায় এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আবুল কাসেম মোল্লা। সরেজমিন তদন্ত করে ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ইটভাটাটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এরপরই ইটভাটা ভাঙার ক্ষতিপূরণের অজুহাতে আব্দুস সামাদ আবুল কাসেম মোল্লার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করা হয়। আবুল কাসেম মোল্লা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করলে আদালতে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তারা অব্যাহতি পান। এরপর আবারো চাঁদা দাবীতে চাপ সৃষ্টি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে আব্দুস সামাদ তার ছেলে সিরাজুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আবুল কাসেম মোল্লার বাড়ির সামনে গিয়ে চাঁদা দাবী করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর ও খুন জখমের হুমকি দিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়। পরে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী আবুল কাসেম মোল্লা। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও হঠাৎ করেই তদন্তের গতি ও অবস্থান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন গুঞ্জন উঠেছে।
ভুক্তভোগী আবুল কাসেম মোল্লা বলেন, আসামিরা অব্যাহতি পেলে তিনি ও তার পরিবার সরাসরি জীবনের হুমকির মুখে পড়বেন। কারণ অতীতেও মিথ্যা মামলা ব্যর্থ হওয়ার পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তিনি অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় গ্রামবাসী জোবায়ের হোসেন, এরসাদ আলী ও খয়বর আলী বলেন, একটি স্পর্শকাতর চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় তদন্ত প্রভাবিত হলে তা শুধু একজন ভুক্তভোগীর জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের জন্যও ভয়ংকর বার্তা বহন করবে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জোবায়ের হোসেন বলেন, কোনো মামলায় প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর অভিযুক্তদের অব্যাহতির বিষয়টি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এতে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকিতে পড়ে, তেমনি বিচার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুন্ন হয়। তাই এক্ষেত্রে অবশ্যই পুলিশকে দায়িত্বশীল আচরন করতে হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এস,আই) হারুন অর রশিদ বলেন, প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন প্রভাবশালী মহলের চাপে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় আপাতত কিছু বলার সুযোগ নেই। তদন্ত কর্মকর্তা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় স্বাধীনভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের জেরে দায়ের করা চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় প্রভাবশালীদের চাপে তদন্ত ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ।

নওগাঁয় চাঁদাবাজি মামলায় তদন্ত নিয়ে পুলিশের নীরবতা, গ্রেপ্তার করেই কি দায় সারা?

আপডেট সময় ০২:২৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁ সদর উপজেলার গোপাই গ্রামে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের জেরে দায়ের করা চাঁদাবাজি প্রাণনাশের হুমকির মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এজাহার দাখিলের পর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও এখন প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এমন গুঞ্জনে চরম আতঙ্কে রয়েছেন ভুক্তভোগী বাদী ও তার পরিবার।

সদর মডেল থানায় দায়ের করা এজাহার ও স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার গোপাই গ্রামে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছিলেন আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তি। তার মালিকানাধীন “সামাদ জেল ব্রিকস” এর দূষণে ওই এলাকার ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বসবাসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল স্থানীয়দের। একাধিকবার অনুরোধ সত্ত্বেও ওই ইটভাটা বন্ধ না করায় এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আবুল কাসেম মোল্লা। সরেজমিন তদন্ত করে ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ইটভাটাটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এরপরই ইটভাটা ভাঙার ক্ষতিপূরণের অজুহাতে আব্দুস সামাদ আবুল কাসেম মোল্লার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করা হয়। আবুল কাসেম মোল্লা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করলে আদালতে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তারা অব্যাহতি পান। এরপর আবারো চাঁদা দাবীতে চাপ সৃষ্টি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে আব্দুস সামাদ তার ছেলে সিরাজুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আবুল কাসেম মোল্লার বাড়ির সামনে গিয়ে চাঁদা দাবী করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর ও খুন জখমের হুমকি দিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়। পরে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী আবুল কাসেম মোল্লা। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও হঠাৎ করেই তদন্তের গতি ও অবস্থান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন গুঞ্জন উঠেছে।
ভুক্তভোগী আবুল কাসেম মোল্লা বলেন, আসামিরা অব্যাহতি পেলে তিনি ও তার পরিবার সরাসরি জীবনের হুমকির মুখে পড়বেন। কারণ অতীতেও মিথ্যা মামলা ব্যর্থ হওয়ার পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তিনি অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় গ্রামবাসী জোবায়ের হোসেন, এরসাদ আলী ও খয়বর আলী বলেন, একটি স্পর্শকাতর চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় তদন্ত প্রভাবিত হলে তা শুধু একজন ভুক্তভোগীর জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের জন্যও ভয়ংকর বার্তা বহন করবে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জোবায়ের হোসেন বলেন, কোনো মামলায় প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর অভিযুক্তদের অব্যাহতির বিষয়টি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এতে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকিতে পড়ে, তেমনি বিচার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুন্ন হয়। তাই এক্ষেত্রে অবশ্যই পুলিশকে দায়িত্বশীল আচরন করতে হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এস,আই) হারুন অর রশিদ বলেন, প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন প্রভাবশালী মহলের চাপে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় আপাতত কিছু বলার সুযোগ নেই। তদন্ত কর্মকর্তা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।